স্ট্রবেরির রয়েছে আর্কষনীয় রং,গন্ধ ও স্বাদ যা খুব সহজেই সকল বাগানীকে আকৃষ্ট করবে। বিদেশি ফল হওয়াই কয়েক বছর আগেও বাংলার মাটিতে স্ট্রবেরি চাষ কেউ ভাবতেও পারেনি। কিন্তু এখন আমাদের আবহাওয়া উপযোগী অনেক উন্নত জাত তৈরি হওয়ায় ছাদে-বারান্দায় টবের মধ্যে এটির চাষ সম্ভব হচ্ছে।
সূচিপত্র –
- স্ট্রবেরির জাত পরিচিতি
- স্ট্রবেরির চাষের সময় ও উপযুক্ত পরিবেশ (রোদ-আলো)
- চারা তৈরি পদ্ধতি ( বীজ ও রানার থেকে )
- টব/পাত্র নির্বাচন
- টবের জন্য মাটি প্রস্তুত প্রণালী
- গাছ রোপণ পরবর্তী সার ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা
- পরবর্তী বছরের জন্য মাতৃগাছ টিকিয়ে রাখা
- স্ট্রবেরির রোগ-বালাই ও সমাধান
স্ট্রবেরির জাত পরিচিতি :
বিদেশি ফল হওয়াই ও তুলনামূলক নতুন হওয়ায় স্ট্রবেরীর উদ্ভাবিত জাত সংখ্যা কম। তারপরও কয়েকটা জাত খুব ভালো ফলাফল দিচ্ছে আমাদের দেশে। এছাড়াও আমদানি করা বীজ থেকেও অনেকে বিদেশি বিভিন্ন জাতের স্ট্রবেরী চাষ করে থাকে ।
আমাদের আবহাওয়া উপযোগী উল্লেখযোগ্য কিছু জাত হলো –
বারি -১,বারি-২, বারি-৩
রাবি -১,রাবি-২, রাবি-৩
এছাড়াও বিদেশি জাতের মধ্যে “আমেরিকান ফেস্টিভ্যাল ” বেশ সমাদৃত।
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে জমিতে চাষের জন্য উপযোগী জাত হলো ” আমেরিকান ফেস্টিভ্যাল” , কারণ – এটির ত্বক কিছুটা শক্ত, কম রসালো। পরিবহন উপযোগী , দীর্ঘ সময় ভালো থাকে । কিন্তু, অন্যান্য জাত গুলোর ফল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, অধিক রসালো হওয়ায় পরিবহন করা ঝামেলা পূর্ণ।
ছাদে-বারান্দায় টবে স্ট্রবেরি চাষ করতে চাইলে যেকোন জাত চাষ করা যাবে । তবে , এখন পর্যন্ত উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু, অধিক রসালো, স্বাদে অতুলনীয় হলো ” রাবি -৩” ।
তাই, আমার মতামত হলো পারিবারিক চাহিদার জন্য স্ট্রবেরি চাষ করলে ” রাবি-৩ ” উত্তম ।
আর পশ্চিমবঙ্গের বাগানীদের জন্য উত্তম জাত হলো “সুইস চার্লি” ।
স্ট্রবেরি চাষের সময় ও উপযুক্ত পরিবেশ (রোদ-আলো):
চারা রোপণ এর সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সেপ্টেম্বর মাস। তবে, নভেম্বর – ডিসেম্বর মাসেও চারা রোপণ করা যাবে। সেপ্টেম্বরে চারা রোপণ করলে গাছ অধিক ঝোপালো হয়, বেশি সময় ধরে ফুল আসার সুযোগ পায় অর্থাৎ, ফলন বেশি হয় ।
আর , নভেম্বর-ডিসেম্বরে চারা রোপণ করলে গাছে দ্রুত ফুল চলে আসে । এতে, গাছের বৃদ্ধি কম হয় তথা, ফলন কম হয় ।
তাই, সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর এর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই স্ট্রবেরি চারা রোপণ করবেন। আর এই সময় ভারী বৃষ্টি হলে গাছ অব্যষই বৃষ্টি থেকে দূরে রাখবেন কারণ – বৃষ্টিতে গাছ পচেঁ যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শীত মৌসুমে স্ট্রবেরি গাছ কে পূর্ণ দিন রোদ -আলো পায় এমন জায়গায় রাখলে সবচেয়ে ভালো ফলন হবে । তবে মিনিমাম ৫-৬ ঘন্টা রোদ পায় এমন জায়গায়ও স্ট্রবেরি চাষ করা যাবে ।
চারা তৈরি পদ্ধতি ( বীজ ও রানার থেকে ):
স্ট্রবেরি চাষের জন্য বীজ থেকে চারা করা মোটেও ফলপ্রসূ নয় । সবচেয়ে ভালো হয় টিস্যু কালচার চারা বা নার্সারি থেকে সংগৃহীত চারার মাধ্যমে চাষ করা।
আর বীজ থেকে চারা করতে চাইলে সরাসরি মূল টবে/পাত্রে বীজ বপন করে চারা না করে প্রথমে অন্য কোন পাত্রে , সিডলিং ট্রে, সিডলিং ব্যাগে চারা করে পরে মূল টবে স্থানান্তর করতে হবে ।
চারা করার বিস্তারিত পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পড়ুন – বীজ থেকে চারা করার সহজ পদ্ধতি
এই পোস্টে ফুল বীজ থেকে চারা করার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে, এই একই ভাবে স্ট্রবেরির বীজ থেকেও চারা করতে পারবেন ।
রানার থেকে চারা তৈরি –
দ্রুত সময়ে ঝামেলা বিহীন ভাবে রানার থেকে স্ট্রবেরির চারা করা যায় । ১৫ দিনেই চারা করা সম্ভব । স্ট্রবেরি গাছ প্রচুর রানার(কচুর লতির মতো) উৎপন্ন করে থাকে , রানার এর মাথায় চারা উৎপন্ন হয় । রানার থেকে চারা করতে চাইলে –
আগস্ট মাসে রানার এর মাথায় যে চারা হবে তা একটি ছোট টব,ওয়ান টাইম গ্লাসে বা পলিব্যাগে মাটি ভরে বসিয়ে দিতে হবে । প্রথম অবস্থায় রানার এর চারায় শিকড় থাকে না বা অল্প থাকে ।
এভাবে মাটিতে চারা বসিয়ে দিলে অল্প দিনের মধ্যে শিকড় হয়ে চারা মাটিতে সেট হয়ে যাবে ।
সাধারণত ১৫-২০ দিন পর চারাটি রানার থেকে আলাদা করে নিলেই একটি পূর্ণাঙ্গ সুস্থ সবল স্ট্রবেরি চারা পাওয়া যাবে।
রানার থেকে চারা করার জন্য মাতৃগাছ কিভাবে সংরক্ষণ করবেন, যত্ন নিবেন তা – পরবর্তী বছরের জন্য মাতৃগাছ টিকিয়ে রাখা , প্যারায় বর্ণনা করা হয়েছে।
বি:দ্র: একবার রানার থেকে চারা করে আবার সেই চারা গাছের রানার থেকে নতুন চারা তৈরি এভাবে চলতে থাকলে গাছের জীবনীশক্তি হ্রাস পায়, ফলন কমে যায়, রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় । তাই, রানার থেকে বারে বারে চারা না করে টিস্যু কালচার এর চারা ব্যবহার করতে হবে অথবা বীজ থেকে চারা করতে হবে স্ট্রবেরি চাষ এর ক্ষেত্রে।
স্ট্রবেরির জন্য টব/পাত্র নির্বাচন :
স্ট্রবেরি চাষ এর জন্য বড় মাপের কোন টবের প্রয়োজন নেই। ৫ লিটার বোতল বা সমপরিমাণ আয়তনের টবে একটি গাছ ভালো ভাবে হতে পারবে।
সবচেয়ে ভালো ও সুন্দর দেখাবে যদি কম উচ্চতার কিন্তু চওড়া এমন পাত্রে স্ট্রবেরি রোপণ করা হয় । এর জন্য ৮ ইঞ্চি চওড়া আর ৪-৫ ইঞ্চি উচ্চতার টব সবচেয়ে উপযোগী। চওড়া পাত্রে গাছ বেশি ঝোপালো হওয়ার সুযোগ পায়, ফল গুলোও চার দিকে ছড়িয়ে পরার সুযোগ পায় যা দেখতে দারুন লাগে ।
টবের জন্য মাটি প্রস্তুত প্রণালী :
(Note: ১ টেবিল চামচ= ১০-১২ গ্রাম ; ১ চা চামচ= ৪ গ্রাম ; ১ টেবিল চামচ= ৩ চা চামচ ; ১ লিটার মাটি = ১.৫ কেজি)
স্ট্রবেরি যেহেতু একটি ফলদ্বায়ী গাছ (fruiting plant) তাই এর প্রচুর খাদ্যের প্রয়োজন পরে । এজন্য মাটি তৈরিতে যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টি উপাদান দিতে হবে ।
টবের জন্য মাটি তৈরিতে –
১. দোআঁশ মাটি ৫০% , গোবর পঁচা ৩০% আর ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করলে দোআঁশ মাটি ৬০% , ভার্মি কম্পোস্ট ২০% আর বাকি ২০% এর জন্য কোকোপিট ১০% আর নদীর লাল বালু ১০% হারে মেশাতে হবে । নদীর বালু না থাকলে কোকোপিট ব্যবহার করতে হবে ২০% । তবে কোকোপিট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই , হাতের কাছে থাকলে ব্যবহার করবেন।
২. রাসায়নিক সার- মাটি তৈরির সময় প্রত্যেক ৫ লিটার পাত্রের সমান মাটিতে ১ চা চামচ টিএসপি (TSP) বা ডিএপি (DAP) সার + ১ চা চামচ এমওপি (MOP) সার মেশাতে হবে । আপনি যদি সম্পূর্ণ জৈব উপায়ে চাষ করতে চান তাহলে রাসায়নিক সার ব্যবহারের দরকার নেই । এতে যদিও ফলন কম হবে।
৩. এভাবে মাটি প্রস্তুত করে ১০-১৫ দিন রেখে দিতে হবে । তারপর গাছ রোপণ করতে হবে।
গাছ রোপণ পরবর্তী সার ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা:
স্ট্রবেরি চাষ এর জন্য গাছ রোপণ করার পর আরও ৩-৪ বার সার প্রয়োগের প্রয়োজন পরে। এতে সবোর্চ্চ ফলন নিশ্চিত হয় ( পরীক্ষিত) ।
১. চারা রোপণ এর ১৫ দিন পর ৫ লিটার আয়তনের বোতল বা টবের সমপরিমাণ মাটির জন্য হাফ চা চামচ ইউরিয়া সার মাটিতে ছিটিয়ে দিয়ে নিড়ানি দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। সার প্রয়োগের পরের দিন পানি সেচ দিতে হবে।
২. একই পরিমাণ ইউরিয়া ও হাফ চা চামচ পটাস সার চারা রোপণ এর ৩০-৩৫ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।
৩. পরবর্তীতে ৫৫-৬০ দিন পর আবার হাফ চামচ ইউরিয়া,হাফ চামচ পটাস ও হাফ চামচ টিএসপি সার প্রয়োগ করতে হবে।
এই তিন বারের পর আর রাসায়নিক সার প্রয়োগ এর প্রয়োজন পরে না। এতেই সবোর্চ্চ ফলন নিশ্চিত হয় । তবে, পরবর্তীতে কোন সারের অভাব জনিত লক্ষণ দেখা দিলে সে সার প্রয়োজন মতো ব্যবহার করতে হবে।
জৈব সার –
চারা রোপণ এর পর প্রতি ১৫ দিন পর পর ৫ লিটার বোতল বা সমপরিমাণ টবের মাটির জন্য এক মুঠো করে ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। টবের উপরের মাটি আলগা করে জৈব সার মাটিতে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে ।
তবে রাসায়নিক সার প্রয়োগ এর সময়কালে জৈব সার প্রয়োগ না করে পরবর্তীতে ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর জৈব সার ব্যবহার করলে ভালো হয়।
কিছু বিশেষ পরিচর্যা:
- গাছ রোপণ এর পরে ও ফল দেওয়া সময় কালীন কোন রানার বের হলে তা নিয়মিত ছাঁটাই করে দিতে হবে।
- ফল যদি সরাসরি মাটির সাথে লেগে থাকে তাহলে সেখানে খড় বিছিয়ে দিতে হবে বা প্লাস্টিক কোন কিছু দিতে হবে । ফল মাটির সাথে লেগে থাকলে পচেঁ যায় ।
- স্ট্রবেরি পাখির খুব প্রিয় । তাই, ফল পাকার সময় সতর্ক থাকতে হবে । ফল পলিথিন প্যাকেট করে দেওয়ার মাধ্যমে পাখি থেকে রক্ষা করা যাবে।
পরবর্তী বছরের জন্য মাতৃগাছ টিকিয়ে রাখা:
স্ট্রবেরি গাছ ফল দেওয়ার পর টিকিয়ে রাখা যায় পরবর্তী বছরের জন্য। মাতৃগাছ করার জন্য ও রানার থেকে চারা করার জন্য গাছ টিকিয়ে রাখতে হয়।
মার্চ-এপ্রিল মাসে ফল দেওয়া শেষ হয় তখন নতুন করে আর ফুল আসে না । মাতৃগাছের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো স্বাস্থ্যবান গাছ বাছাই করতে হবে।
স্ট্রবেরি গাছ মূলত শীত প্রধান অঞ্চলের ফসল তাই আমাদের দেশের গরম আবহাওয়ায় সরাসরি রোদের নিচে না রেখে, মার্চ-এপ্রিল মাস থেকে ছায়ায় রাখতে হবে। আবার বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টি থেকে দূরে রাখতে হবে, জলাবদ্ধতা হলে গাছ মরে যাবে । এই সময় গাছের স্বাস্থ ঠিক রাখতে নিয়মিত রানার ছাঁটাই করতে হবে আর চারা করতে চাইলে সুস্থ-সবল রানার থেকে চারা করতে হবে। তবে রানার থেকে চারা করতে চাইলে আগস্ট মাস উত্তম সময়।
স্ট্রবেরির রোগ-বালাই ও সমাধান :
স্ট্রবেরি চাষ এর ক্ষেত্রে পোকা-মাকড় এর আক্রমণ থেকে বেশি ছত্রাক-ব্যাকটেরিয়া জনিত সমস্যা দেখা দেয়।
এখানে কিছু প্রধান রোগ/সমস্যা ও তার সমাধান উল্লেখ করা হয়েছে । এর বাইরে অন্য কোন সমস্যা আপনার গাছে পরিলক্ষিত হলে কমেন্ট করে জানাবেন, সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব ।
ক্ষুদ্র লাল মাকড়- মাকড়ের আক্রমণে স্ট্রবেরির ফলন ক্ষমতা ও গুণগত মান মারত্মকভাবে হ্রাস পায়। মাকড় পাতার রস চুষে খায় এতে পাতায় ছোট ছোট হলদে দাগের বিন্দু সৃষ্টি হয় পরে তা তামাটে বা সাদা বর্ণ ধারণ করে । এরা পাতার উল্টো পাশে থাকে । আক্রমণে পাতা পুরু হয়ে, মচমচে হয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে পাতা কুঁকড়ানো হয়ে যায়।
আক্রমণের প্রথম অবস্থায় নিম তেল প্রয়োগে কিছুটা কাজ হতে পারে ।
আর প্রকট আক্রমণে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য এবামেকটিন জাতীয় মাকড়নাশক বা ৮০% সালফার জাতীয় মাকড়নাশক ব্যবহার করলে মাকড় সম্পূর্ণ রুপে দমন হবে।
ছত্রাকজনিত নানা সমস্যা ও সমাধান-
স্ট্রবেরি চাষ করতে গেলে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জনিত নানা সমস্যা দেখা দেয়। এদের মধ্যে কিছু সমস্যা মারাত্মক যার কারণে গাছ মারাও যেতে পারে । এখানে কিছু সমস্যা ও সমাধান বর্ণনা করা হলো:
১. পাতার ব্লাইট রোগ – এ রোগে প্রথম অবস্থায় পাতার উপর বাদামি,লাল বা হলুদ রঙের দাগ দেখা দেয় । এই দাগ আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেতে থাকে যা পাতার অধিকাংশ অংশে ছড়িয়ে যায় ।
২. পাতার দাগ রোগ – ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে। এ রোগে পাতায় বাদামি রংয়ের দাগ সৃষ্টি হয়। রোগের আক্রমণ ফলন এবং ফলের গুণগত মান হ্রাস পায়।
৩. ঢলেপড়া রোগ – আক্রান্ত গাছ হঠাৎ করে দুর্বল ও কচি পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। সমগ্র গাছে দ্রুত এটি ছড়িয়ে পরে ও গাছ ঢলে পরে। আক্রমণ বেশি হলে গাছ বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং মারা যায়। সাধারণত মাটিতে পানি জমে থাকলে এ রোগের আক্রমণ বেশি হয়।
৪. গোড়াপচাঁ রোগ – এ রোগে গাছের কচি পাতা নেতিয়ে পরে ও গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। একসময় গোড়া পচেঁ যায় ও গাছ মারা যায় ।
এসব রোগের একটা প্রধান কারণ হলো মাটিতে জলাবদ্ধতা। এছাড়াও সুষম সারের অভাবও কিছুটা দায়ী । এজন্য মাটিতে সুষম জৈব সার নিয়মিত প্রয়োগ করে যেতে হবে। প্রতি ৫ লিটার টবের সমান মাটিতে ১৫-২০ দিন পর পর এক মুঠো করে গোবর পঁচা সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করা যেতে পারে। আর মাটিতে যেনো কোন ভাবেই পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আর আক্রমণ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলা যায়। এজন্য ফল আসার আগ পর্যন্ত অন্তত দুই বার বা প্রতি মাসে একবার করে (কার্বন্ডাজিম +ম্যানকোজেব ) ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
আর আক্রমণ দেখা দেওয়ার প্রাথমিক অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। কিন্তু আক্রমণ বেশি হলে গাছকে আর রক্ষা করা যায় না, তখন গাছ তুলে বাগান থেকে দূরে সরিয়ে ফেলতে হবে ।
